আইনি
শর্তাবলি
শেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬
টেক নিবাসের সাথে কাজ করলে কী আশা করবেন আর আমরা আপনার কাছে কী আশা করি — সব এখানে সহজ ভাষায় লেখা। আইনি জটিলতা নয়, পরিষ্কার নিয়মই আমাদের লক্ষ্য, যাতে কাজ শুরুর আগেই দুই পক্ষ একই কথা বোঝে।
সংক্ষেপে
- কাজ শুরুর আগে স্কোপ, দাম ও সময় লিখিতভাবে ঠিক হয় — পরে দাম বাড়ে না।
- পেমেন্ট ধাপে ধাপে: অগ্রিম, মাঝামাঝি কিস্তি, আর হস্তান্তরে বাকিটা।
- কাস্টম কাজে পুরো পেমেন্টের পর সোর্স কোড, ডেটাবেস ও হোস্টিং অ্যাক্সেস আপনার।
- লাইভ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় বিনা খরচে বাগ ফিক্স ও সাপোর্ট।
এই শর্তাবলি কখন প্রযোজ্য
এই শর্তাবলি technibas.com ব্যবহার, আমাদের রেডি সফটওয়্যার (সাবস্ক্রিপশন) এবং কাস্টম প্রজেক্ট — তিনটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- কোনো প্রজেক্টের জন্য আলাদা লিখিত চুক্তি বা প্রপোজাল থাকলে, সেখানে যা লেখা আছে সেটাই আগে প্রযোজ্য হবে।
- প্রপোজাল গ্রহণ করে অগ্রিম পেমেন্ট দিলে ধরে নেওয়া হবে আপনি এই শর্তাবলিতে সম্মত।
স্কোপ, প্রপোজাল ও পরিবর্তন
কোড লেখার আগে আমরা একটি লিখিত প্রপোজাল দিই, যেখানে কী বানানো হবে আর কী হবে না — দুটোই পরিষ্কার থাকে।
- প্রপোজালে থাকে: ফিচারের তালিকা, নির্ধারিত দাম, তারিখসহ সময়সূচি আর পেমেন্টের ধাপ।
- কাজের মাঝে নতুন কিছু যোগ করতে চাইলে, আগে তার খরচ ও সময় লিখিতভাবে জানাই — আপনি রাজি হলে তবেই কাজ শুরু।
- আপনার অনুমোদন ছাড়া কোনো বাড়তি বিল আসবে না।
দাম ও পেমেন্ট
একবারে পুরো টাকা নয় — কাজের অগ্রগতির সাথে মিলিয়ে ধাপে ধাপে পেমেন্ট।
- কাস্টম প্রজেক্ট: সাধারণত শুরুতে অগ্রিম, মাঝামাঝি একটি কিস্তি, আর কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বাকিটা।
- রেডি সফটওয়্যার: মাসিক বা বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন, মেয়াদের শুরুতে পরিশোধযোগ্য।
- ইনভয়েসে লেখা তারিখের মধ্যে পেমেন্ট করতে হয়। পেমেন্ট বকেয়া থাকলে আগে জানিয়ে কাজ বা সার্ভিস সাময়িক বন্ধ রাখা হতে পারে।
আপনার দিক থেকে যা দরকার
সময়মতো প্রজেক্ট শেষ করতে দুই পক্ষেরই ভূমিকা আছে। প্রজেক্ট সবচেয়ে বেশি দেরি হয় ক্লায়েন্টের দিক থেকে তথ্যের অপেক্ষায় — তাই কী লাগবে, শুরুতেই জানিয়ে দিই।
- লেখা, ছবি, লোগো, লগইন ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেস সময়মতো দেওয়া।
- রিভিউ ও সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানো — আপনার দিক থেকে দেরি হলে সময়সূচিও সেই অনুযায়ী পিছিয়ে যায়।
- যে লেখা, ছবি বা ডেটা আপনি দেন, তা ব্যবহারের অধিকার আপনার আছে — এটা নিশ্চিত করা।
সোর্স কোড ও মালিকানা
আমরা চাই না আপনি আমাদের উপর আটকে থাকুন। তাই মালিকানার নিয়ম শুরু থেকেই পরিষ্কার।
- কাস্টম প্রজেক্ট: পুরো পেমেন্টের পর সোর্স কোড, ডেটাবেস ও হোস্টিং অ্যাক্সেস সম্পূর্ণ আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
- রেডি সফটওয়্যার: সাবস্ক্রিপশন চালু থাকা পর্যন্ত ব্যবহারের লাইসেন্স পান; সফটওয়্যারের মালিকানা টেক নিবাসের, তবে এর ভেতরের আপনার ডেটা সবসময় আপনার।
- আমাদের সাধারণ টুল ও অভিজ্ঞতা (কোনো ক্লায়েন্টের নিজস্ব নয় এমন কোড) অন্য প্রজেক্টে ব্যবহার করতে পারি।
- আপনার প্রজেক্ট আমাদের পোর্টফোলিওতে দেখাতে পারি, যদি না আপনি বারণ করেন।
চালুর পরের সাপোর্ট
লাইভ হওয়া মানেই কাজ শেষ নয়। আসল ব্যবহারে যে সমস্যা ধরা পড়ে, তা ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের।
- প্রতিটি প্রজেক্টে লাইভ হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় (চুক্তিতে উল্লেখিত) বিনা খরচে বাগ ফিক্স।
- সম্মত স্কোপের বাইরের নতুন ফিচার আলাদাভাবে কোট করা হয়।
- এরপর মাসিক সাপোর্ট ও মেইনটেন্যান্স প্ল্যান নিতে পারেন, অথবা দরকার হলে আলাদা করে কাজ দিতে পারেন।
থার্ড-পার্টি সার্ভিস
অনেক প্রজেক্ট বাইরের সার্ভিসের উপর চলে — যেমন হোস্টিং, ডোমেইন, পেমেন্ট গেটওয়ে, SMS, Shopify, n8n, Make, Zapier বা AI API।
- এসব সার্ভিসের খরচ সাধারণত সেই প্রতিষ্ঠান সরাসরি আপনার কাছ থেকে নেয়, আর অ্যাকাউন্ট আপনার নামেই থাকে।
- তাদের সার্ভিস বন্ধ থাকা, নিয়ম বা দাম বদলানো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে — তবে সমস্যা হলে সমাধানে আমরা পাশে থাকি।
গোপনীয়তা রক্ষা
কাজের সূত্রে আপনার ব্যবসার যে তথ্য জানি — বিক্রি, দাম, কাস্টমার, পরিকল্পনা — তা গোপন রাখি এবং প্রজেক্টের বাইরে ব্যবহার করি না। চাইলে আলাদা NDA-তে সই করতে পারি।
দায়ের সীমা
আমরা যত্ন নিয়ে কাজ করি, তবে কোনো সফটওয়্যার শতভাগ ত্রুটিমুক্ত বা সবসময় চালু থাকবে — এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
- কোনো কারণে আমাদের দায় তৈরি হলে, তা সেই প্রজেক্টে আপনার দেওয়া মোট টাকা (সাবস্ক্রিপশনের ক্ষেত্রে শেষ ১২ মাসের ফি) পর্যন্ত সীমিত।
- পরোক্ষ ক্ষতি — যেমন ব্যবসার লাভ বা সুযোগ হারানো — এর দায় আমরা নিই না।
প্রজেক্ট বা সাবস্ক্রিপশন বাতিল
দুই পক্ষের যে কেউ লিখিত নোটিশ দিয়ে প্রজেক্ট বন্ধ করতে পারে।
- সেদিন পর্যন্ত যতটুকু কাজ হয়েছে, তার পেমেন্ট দিতে হবে — আর সেই কাজটুকু আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
- সাবস্ক্রিপশন যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়; চলতি মেয়াদ শেষ পর্যন্ত চালু থাকে।
- বন্ধ করার পর অনুরোধ করলে আপনার পুরো ডেটা স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটে দিয়ে দিই — কোনো ফি ছাড়া।
যে কাজ আমরা করি না
আইনের বাইরে বা মানুষের ক্ষতি করে এমন কোনো কাজ আমরা নিই না — দাম যত বেশিই হোক।
- জুয়া, বেটিং, MLM বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং, আর বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পণ্য বা সেবা বিক্রির প্ল্যাটফর্ম।
- ফিশিং, হ্যাকিং, স্প্যাম, ভুয়া রিভিউ বা অনুমতি ছাড়া মানুষের তথ্য সংগ্রহের টুল।
- অন্যের কপিরাইট, ট্রেডমার্ক বা ডিজাইন নকল করা।
- কাজ চলাকালীন এমন কিছু ধরা পড়লে আমরা কাজ বন্ধ করার অধিকার রাখি; সেদিন পর্যন্ত হওয়া কাজের পেমেন্ট প্রযোজ্য থাকবে।
যে আইনগুলো প্রযোজ্য
আমাদের কাজ ও চুক্তি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীনে। সহজ করে বললে, এই আইনগুলো আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি। প্রতিটির মূল পাঠ সরকারি ওয়েবসাইটে পড়া যায়:
- চুক্তি আইন, ১৮৭২ — প্রপোজাল গ্রহণ ও অগ্রিম পেমেন্টের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বৈধ চুক্তি তৈরি হয়।চুক্তি আইন, ১৮৭২
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ — ইমেইল, WhatsApp বা অনলাইনে দেওয়া অনুমোদন ও ইলেকট্রনিক রেকর্ড আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬
- কপিরাইট আইন, ২০২৩ — সফটওয়্যার ও সোর্স কোড কপিরাইটের আওতায় সুরক্ষিত; পুরো পেমেন্টের পর কাস্টম কাজের স্বত্ব আপনার কাছে হস্তান্তর হয়।কপিরাইট আইন, ২০২৩
- ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ ও ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা, ২০২১ — ই-কমার্স সাইটে পণ্যের দাম, ফেরত ও ডেলিভারির নিয়ম মানার দায়িত্ব বিক্রেতা হিসেবে আপনার; প্রয়োজনীয় পেজ ও ফিচার বানাতে আমরা সাহায্য করি।ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা, ২০২১
- ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন (সংশোধিত বা নতুন আইনসহ) — আপনার কাস্টমার ও স্টাফের তথ্য আইন মেনে রাখা হয়; তথ্য সংগ্রহের বৈধ কারণ ও অনুমতি নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব।
- মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং আয়কর আইন, ২০২৩ — প্রযোজ্য ক্ষেত্রে VAT ও কর আইন অনুযায়ী যোগ হবে, যা প্রপোজালে আলাদা করে লেখা থাকবে।মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২আয়কর আইন, ২০২৩ (NBR)
- পেমেন্ট গেটওয়ে (bKash, Nagad, কার্ড) বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলে; মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট আপনার নামে খুলতে হয়।বাংলাদেশ ব্যাংক MFS রেগুলেশন, ২০২২
প্রযোজ্য আইন ও বিরোধ নিষ্পত্তি
এই শর্তাবলি ও আমাদের প্রতিটি চুক্তি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরিচালিত ও ব্যাখ্যা করা হবে। মতবিরোধ হলে আমরা ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করব:
- প্রথমে সরাসরি আলোচনা — লিখিত নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ মিলে সমাধানের চেষ্টা।
- তাতে সমাধান না হলে, দুই পক্ষ রাজি থাকলে সালিস আইন, ২০০১ অনুযায়ী ঢাকায় সালিস।সালিস আইন, ২০০১
- এরপরও নিষ্পত্তি না হলে বিষয়টি ঢাকার উপযুক্ত আদালতের একচেটিয়া এখতিয়ারে যাবে।
শর্তাবলির পরিবর্তন
প্রয়োজনে এই পেজ আপডেট করতে পারি, আর উপরে তারিখ বদলে দেওয়া হবে। আগে সই হওয়া চুক্তি নতুন পরিবর্তনে বদলাবে না।